আজ বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭           আমাদের কথা    যোগাযোগ

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

চাকরি ছেড়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করে সিঙ্গাড়া বিক্রি, ৪ বছরে কোটিপতি দম্পতি


চাকরি ছেড়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করে সিঙ্গাড়া বিক্রি, ৪ বছরে কোটিপতি দম্পতি

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ২২, ২০১৯   পঠিতঃ 90342


ভারতের হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি পড়ার সময় নিধি এবং শিখর সিংহের পরিচয়। সেখানেই প্রেম। নিধির বরাবরই ইচ্ছা ছিল মার্কেটিংয়ের চাকরি করার। পড়াশোনা শেষ করে নিধি একটি মার্কিন সংস্থায় মার্কেটিং এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্টের চাকরি পান।

আর বায়োটেকনোলজি নিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করতে শিখর যান হায়দরাবাদ। সেখানেই প্রথম উপলব্ধি করেন, ন্যায্য মূল্যে স্বাস্থ্যকর খাবার কোথাও নেই, মানুষের ভরসা তাই স্ট্রিট ফুড। সেটা ছিল ২০০৭ সাল। তার সিঙ্গাড়া কিয়স্ক খোলার ইচ্ছার কথা নিধিকে জানান তিনি। কিন্তু তখন ব্যবসা শুরুর প্রয়োজনীয় টাকা ছিল না। ২০০৯ সালে শিখর বায়োকন কোম্পানিতে যোগ দেন। এর দু’বছর পর বিয়ে করেন নিধি-শিখর।

সংসার, চাকরি— সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু শিখরের মনের কোণে সেই সিঙ্গাড়া কিয়স্ক রয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই দু’জনের মধ্যে এটা নিয়ে কথা হত। এর অনেক বছর পর, ২০১৫ সালে অবশেষে দু’জনে ব্যবসাটা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

শিখর তার পরদিনই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন আর নিধি কোম্পানিতে কথা বলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম-এর ব্যবস্থা করে ফেলেন। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে ফ্ল্যাটের কাছেই ছোট একটা ঘর ভাড়া নিয়ে সিঙ্গাড়া বিক্রি শুরু করেন তারা। রাঁধুনিও রেখেছিলেন। কিয়স্কের নাম হয় ‘সামোসা সিংহ’।

নিধি-শিখর দু’জনই স্বাস্থ্যকর দিকটা নজর রেখেছিলেন প্রথম থেকেই। সিঙ্গাড়া খেলে যেন আঙুলে তেল লেগে না থাকে, সে দিকে বিশেষ নজর ছিল তাদের। দামটাও রেখেছিলেন নাগালের মধ্যে। ২০ টাকায় দুটো আলু সিঙ্গাড়া আর ৫৫ টাকায় দু’টো অর্থাৎ এক প্লেট চিকেন মাখানি সিঙ্গাড়া। এছাড়া, চকোলেট সিঙ্গাড়াও বিক্রি শুরু করেন তারা। পাশাপাশি হোম ডেলিভারিও চলছিল।


ক্রমে দিনে তাদের ৫০০টা করে সিঙ্গাড়া বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু এবার আরও বড় কিছু করার সময় এসে গিয়েছিল। নিধি এবং শিখর করপোরেট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। জার্মানির ইঞ্জিনিয়ারিং জায়ান্ট ‘দ্য কোম্পানি’ তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। ৮ হাজার সিঙ্গাড়ার অর্ডার দেয় তারা

ব্যবসাটাকে বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার এটাই ছিল সেরা সুযোগ। কিন্তু সমস্যা ছিল অর্থের। ঝুঁকি নিয়ে নিধি এবং শিখর তাদের ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেন। সেই টাকা ব্যবসায় নিয়োগ করেন। একটা বড় রান্নাঘর কিনে তৈরি করেন তারা।

সিঙ্গাড়া যাতে খারাপ না হয়ে যায়, ভিতরের পুরটাও যাতে ডেলিভারির দিন পর্যন্ত টাটকা থাকে, সে রকম অভিনব কিছু ব্যবস্থা করেছিলেন শিখর এবং তার রাঁধুনি। হাইজিন বজায় রাখার জন্য সিঙ্গাড়ায় কোনও প্রিজারভেটিভও দেওয়ার তীব্র বিরোধী ছিলেন তারা।

এরপর আইনক্স, পিভিআর, ক্যাফে কফি ডে, টিসিএস সমস্ত জায়গায় ক্রমে তাদের নিজের আউটলেট খোলা হয়। বেঙ্গালুরুতে তাদের ৭টা আউটলেট রয়েছে বর্তমানে।

ব্যবসা আরও বাড়ানোর জন্য নিধি সিঙ্গাড়া উৎসবের আয়োজন করেন। বিভিন্ন করপোট কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান। উৎসবে সিঙ্গাড়া খেয়ে অনেকেরই ভাল লেগে যায়। তারা তাদের সংস্থায় ‘সামোসা সিংহ’-এর আউটলেটের ব্যবস্থা করেন।

ব্যবসা যত বাড়তে থাকে আরও উন্নত রান্নাঘর ও সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তার জন্য প্রয়োজন ছিল আরও অর্থের। এবার আর নিধি-শিখরের পক্ষে বিনিয়োগ করা সম্ভব ছিল না। কোনও বিনিয়োগকারীর খোঁজ শুরু করেন তারা।

তারা খোঁজ পান কানওয়ালজিৎ সিংহ নামে এক বিনিয়োগকারীর, যিনি ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। নিধিকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন শেখর। অনেক চেষ্টায় কানওয়ালজিতের ফোন নম্বর জোগাড় করলেও, তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তারা।

নিধি এতটাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে, ঠিকানা জোগাড় করে কানওয়ালজিতের বাড়ির সামনে হাজির হন। কিন্তু দু’দিন অপেক্ষা করেও তার সঙ্গে দেখা হয়নি নিধির। দু’সপ্তাহ পর ভাগ্যবশত ফোনে যোগাযোগ হয় তার। নিধি এবং শিখরের অফুরন্ত এনার্জি এবং ব্যবসার প্রতি ডেডিকেশন ভাল লেগে যায় কানওয়ালজিতের। বিনিয়োগ করতে রাজিও হয়ে যান তিনি।

বর্তমানে দিনে ১০ হাজার সিঙ্গাড়া তৈরি করে ‘সামোসা সিংহ’। সমস্ত আউটলেটে ফ্রোজেন সিঙ্গাড়া চলে যায় রান্নাঘর থেকে। গ্রাহককে সরাসরি গরম গরম ভেজে দেওয়া হয়। শিখর-নিধির পরবর্তী লক্ষ্য বেঙ্গালুরুতেই প্রতিদিন ৫০ হাজার সিঙ্গারা বিক্রি করা। বেঙ্গালুরুর বাইরে হায়দরাবাদেও তাদের আউটলেট চালু হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি পুনেতেও তাদের আউটলেট চালু হবে বলে আশা করছেন তারা।

ব্যবসায় নতুনত্ব আনার চিন্তা সব সময়ই করে চলেন তারা। কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, আরও নতুন কী চালু করা যায়, প্রতিনিয়ত ভেবে চলেছেন তারা। বর্তমানে ‘সামোসা সিংহ’-এর ব্যবসার পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। এই আর্থিক বছর তা বেড়ে ৮ কোটি হবে বলে আশা শেখর-নিধি দম্পতির। সূত্র: আনন্দবাজার

ইসরাফিল হোসেন / ইসরাফিল হোসেন


মন্তব্য করুন

কেশবপুরের পল্লীতে হয়রানির ঘটনায় থানায় অভিযোগ

আমি সৎ,দক্ষ ও সজ্জন বললেন সাবেক স্বাস্থ্য ডিজি

দেশে করোনায় মৃত্যু সাড়ে ৩ হাজার ছাড়িয়ে

নিজের গাড়ি ভেঙ্গে আ'লীগ-ছাত্রলীগের নামে মামলা করল উপজেলা চেয়ারম্যান

করোনায় আক্রান্ত রুমিন ফারহানা

শোক দিবসকে সামনে রেখে কেশবপুরে যুবলীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে ১০০ জনের করোনা শনাক্ত

অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে চার বিভাগের উপর কড়া নজর অর্থ মন্ত্রালয়ের

মনিরামপুর অনলাইন ক্লাস জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

মনিরামপুরের কৃতিসন্তান ডুমুরিয়া থানা অফিসার বিপ্লব গুরত্বর অসুস্থ

পটুয়াখালীতে বিষ পানে এক গৃহবধূর আত্মহত্যা

কেশবপুরের শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যাণ্ড

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা