আজ বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

মনিরামপুরবাসী ভুলি নাই, ভুলবে না,৬ ডিসেম্বর গোলাম মোস্তফার ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী


মনিরামপুরবাসী ভুলি নাই, ভুলবে না,৬ ডিসেম্বর গোলাম মোস্তফার ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯   পঠিতঃ 148554


মোঃ শাহ্ জালাল: ভুলি নাই, ভূলবো না (৬ ডিসেম্বরের দিনটি)

মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী ৬ ডিসেম্বরের দিনটি ভুলি নাই আমরা। মণিরামপুরের সর্বস্তরের মানুষ তাই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরন করে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবার নয়। এবার পালিত হবে তার চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী। মরহুমের পরিবার, এলাকাবাসি ও উপজেলা আওয়ামীলীগ আলাদা-আলাদা ভাবে নানা আয়োজনে-কোরান খতম, আলোচনা সভা এবং দোয়া-মাহফিলের মধ্য দিয়ে পালিত হবে।
গোলাম মোস্তফা শুধু আওয়ামীলীগের আদর্শের মানুষদের কাছে প্রিয়পাত্র ছিলেন না-অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও অতি সাধারণ মানুষদের কাছেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়। সদালপী মানুষ হিসেবে তার পরিচিতিটা একটু বেশিই ছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে। জনগণের ভালবাসা ও কর্তব্যপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় আদর্শ নেতার খেতাবটিও পেয়েছেন অতিসাধারণ জনতার কাছ থেকে। 

৯০ দশকের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের পুরাতন রাজিৈতক দল আওয়ামীলীগের মণিরামপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকরে দায়িত্ব পালনসহ মণিরামপুর আওয়ামীলী প্রেমিক মানুষের একজন ত্যাগী অভিভাবক হিসেবে অভিভূর্ত হয়েছিলেন তিনি। মণিরামপুরবাসি ভাগ্যগুনে আওয়ামীলীগের দূঃসময়ে গোলাম মোস্তফার মত একজন অভিভাবক পেয়েছিলেন। শুধু আওয়ামীলীগ নয়-অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন আদর্শের ও আস্থার প্রতীক। কোন অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করতেন না তিনি। কারও সাথে প্রতারনা করা বা বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলার চেষ্টাও করতেন না। কেউ কখনো কোন কাজের সুপারিশ নিয়ে তার কাছে আসলে-তিনি সঠিক পন্থাটি বাতলিয়ে দিতেন এবং সমর্থ অনুযায়ী কাজ করে দিতেন। না পারলে বা সমর্থের বাইরে থাকলে অনর্থক হয়রানীর মধ্যে ফেলার চেষ্টা করতেন না।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে ধারবাহিক ভাবে রাষ্টীয় ক্ষমতায় থাকলেও অতি উৎসাহী হয়ে নিজের পেশা দলিল লেখক থেকে সরে যায়নি কখনো। এ কাজে তিনি পেশাদারী মনোভাবাপন্ন ছিলেন সর্বদা। নিয়মিত অফিস করা ছিল তার দৈনন্দিন অভ্যাস। এ কাজের পাশাপাশি দলের নেতৃত্ব থেকেও একচুল পরিমানও সরে যেতেন না তিনি। তাইতো নিজের দলিল লেখকের কাজের পাশাপাশি নিজের পৈত্রিক জায়গাতে নিজ খরচে ভবন তৈরী করে দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কার্যালয় করে দিয়েছিলেন। দলীয় কার্যালয়ে আগত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সাথে সময় দিতেন সর্বক্ষণ। তার কাছে আসলে তাদের আদর-আপ্যায়ন করতেও বিন্দু পরিমান ভূল করতেন না। কেউ আসলে কমপক্ষে এক কাপ রং চা না খাইয়ে তিনি যেতে দিতেন না। চায়ের আড্ডার সাথে-সাথে শুনতেন তাদের সূখ-দূঃখের কথা, পারিবারিক ও এলাকার রাজনৈতিক খোজ-খবর নিতেন। রাজনৈতিকসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে অতি উৎসাহের সহিত আলোচনা করতেন তাদের সাথে। সাধারণ নেতাকর্মীরা তার কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করতেন। অতি দূঃখের মাঝেও নেতাকর্মীরা তার কথায় আস্থা ফিরে পেতেন। ফিরে পেতেন একটু স্বস্থি, হৃদয়ে স্পন্দন।
মনে পড়ে সেই ২০১৩/১৪ সালের রাজনৈতিক দূঃসময়ের কথা। সারাদেশে জ্বালাও-পড়াও আন্দোলনের সময়ের কথা। সারাদেশের রাজনৈতিক ময়দান যখন অস্থির। 

রাজপথ, হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জ যখন স্বাধীনতা বিরোধী চক্র নরকের আস্তানা বানিয়ে ফেলেছিল, জনসাধারনের জীবন চলার পথ যখন অশান্তির আগুনে জ্বলেপুড়ে তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, মানুষ তার কর্মক্ষেত্র পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল, নাশকতা বাহিনী যখন আওয়ামীলীলীগ নেতা-কর্মীদের ঘরবাড়ী জ্বালানোর পাশাপাশি লুটতরাজ করে হট্টহাসিতে মেতে উঠেছিল, রাস্তার চলন্ত গাড়ী ভাংচুরসহ যাত্রীবাহি বাসে অগ্নি সংযোগ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল-ঠিক তখন সকল ভয়কে উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের সাথে সদা যোগাযোগ রাখার জন্য প্রয়াত গোলাম মোস্তফা নিয়মিত উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে হাজির হতেন। শোকে-দূঃখে নিস্পেষিত-নির্যাতিত আওয়ামী পাগল মানুষ গুলোকে তিনি ধর্যধারণ করার আহবান জানাতেন। শান্তনা দিতেন আর বলতেন ইনসাল্লাহ এ অবস্থা আর বেশিদিন থাকবে না অচিরেই এ দূঃসময়ের কালো মেঘ কেটে গিয়ে-শান্তির সোনালী সূর্য উদিত হবেই-হবে। হয়েছিল তাই। কঠিন বাস্তবতার মাঝেও ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ্যতা অর্জন করে পুনরায় সরকার গঠন করলো। 

মানুষের মাঝে আবার শান্তির সুবাতাস ফিরে আসলো। তরতর করে দেশ উন্নতির স্বর্ণ শিখরে আরোহন করতে শুরু করলো। এরপরই মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। গোলাম মোস্তফা তার ত্যাগ-তিথীক্ষা ও হাজারও নেতা কর্মীদের ভাষায় সিক্ত হয়ে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস হাজার-হাজার ভালবাসার মানুষকে কাঁদিয়ে ২০১৫ সালের শেষ প্রান্তে ৬ ডিসেম্বর সামান্য অসুখে পড়ে হাজার-হাজার ভক্তবৃন্দদের কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

আজ গোলাম মোস্তফা নেই। তাইতো গোলাম মোস্তফার উত্তর সূরী ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও যোগ্যতার বুনিয়াদে পিতার আদর্শে ধরে রেখে মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন তারই কনিষ্ঠ পুত্র প্রভাষক ফারুক হোসেন। এছাড়া জৈষ্ঠ্য পুত্র মণিরামপুর পৌর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। মণিরামপুরের মানুষ হিসেবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাদের উত্তরাত্তর সফলতা কামনা করছি।

শাহ্‌ জালাল / ইসরাফিল হোসেন


মন্তব্য করুন

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যাণ্ড

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা