আজ মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

স্বেচ্ছায় রক্তদানের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন


স্বেচ্ছায় রক্তদানের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন

প্রকাশিতঃ রবিবার, জুন ১৪, ২০২০   পঠিতঃ 96012


বিধাতার অসংখ্য অমূল্য দানের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো আমাদের শরীরের ‘রক্ত’। এটি একপ্রকার তরল যোজক কলা, যা হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকার মধ্য দিয়ে নিয়মিত প্রবাহের মাধ্যমে দেহে অক্সিজেন, কার্বন-ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ পরিবাহিত করে। গড়ে ৫-৬ লিটার রক্তের হিসেবে মানবদেহে এর পরিমাণ শতকরা ৭ ভাগ। মানুষের মূল্যবান প্রাণ রক্ষায় রক্তের কোনো বিকল্প নেই। কোনো কারণে আমাদের রক্তের প্রয়োজন হলে অন্য মানুষের রক্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ রক্তের মানবসৃষ্ট কোনো উৎস নেই।

মানুষের অমূল্য জীবন বাঁচাতে বিশুদ্ধ বা নিরাপদ রক্তের অপরিহার্যতা অনুভব করে স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে এবং অন্যদের এই মহান কর্মে উদ্বুদ্ধ করতে ২০০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন করা হচ্ছে। রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টিনারের জš§ও এই দিনে। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের অভ্যাস গড়ে ওঠেছে।

মানুষের শরীরে নির্ধারিত পরিমাণ রক্তের সরবরাহ অপরিহার্য। অন্যথায় মানুষের বেঁচে থাকা অসম্ভব। বিভিন্ন দুর্ঘটনা কিংবা শারীরিক অসুস্থতায় মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয়। সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনোভাবে আহত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, বমি বা পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্ত যাওয়া, ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, এনিমিয়া ইত্যাদি জটিল রোগে আক্রান্ত হলে অস্ত্রোপচারের সময়, প্রসবকালে গর্ভবতী নারীর রক্তের প্রয়োজন হয়। এসব ক্ষেত্রে আমাদের দেশে বছরে ১০ লাখের বেশি ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ ভাগ রক্তের ঘাটতি থাকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উৎকর্ষের পরেও শুধু রক্তের অভাবেই প্রতি বছর শিশু, গর্ভবতী নারী ও জটিল রোগে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সী প্রায় অর্ধ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। এর কারণ, রক্তদানে আমাদের উদাসীনতা, অহেতুক ভয় এবং যথাযথ উদ্যোগের ঘাটতি। আবার সংগৃহীত রক্তের পুরোটাই নিরাপদ বা ব্যবহারযোগ্য নয়। রক্ত সংগ্রহের মূল উৎস রোগীর পারিবারিক সদস্য, নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব। এর বাইরে কিছু স্বেচ্ছাসেবী এবং পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকেও রক্ত সংগ্রহ করা হয়। তবে পেশাদার রক্তদাতাদের রক্তের সিংহভাগই অনিরাপদ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, উন্নত বিশ্বে ৪৫ ভাগ মানুষ স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন। আর বাংলাদেশ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর সংখ্যা প্রতি হাজারে মাত্র তিনজন। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে মানুষ পেশাদার রক্তদাতাদের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু এদের সিংহভাগই মাদকাসক্ত কিংবা হেপাটাইসিস, এইডস, সিফিলিসের মতো মারাত্মক রোগের জীবাণুবাহী রক্ত বহন করে। ফলে এদের রক্ত পুরোটাই অনিরাপদ। দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার পরিমাণ বাড়ানো গেলে রক্তের ঘাটতি যেমন দূর হবে, তেমনি নিশ্চিত হবে নিরাপদ রক্তের সরবরাহ।

একজন সুস্থ ব্যক্তি বছরে তিনবার রক্ত দিতে পারেন। এতে তার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ রক্তের লোহিত কণিকাগুলো স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি চার মাস অন্তর নষ্ট বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নতুন রক্ত কণিকা তৈরি হয়। তাছাড়া নিয়মিত রক্তদানের ফলে দেহের কোনো ক্ষতি তো হয়ই না, বরং এর বিভিন্ন সুফল রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের সিংহভাগ লোকই তা জানে না। সরকারি প্রচারণার ঘাটতি, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়হীনতাসহ নানা কারণে প্রয়োজনীয় রক্তের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।

আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন  যেমন নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচি, রেড ক্রিসেন্ট, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সন্ধানী, বাঁধন ইত্যাদি রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করছে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সারাদেশের প্রয়োজনীয় রক্তের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ত সংগ্রহের পরিধিও বিস্তৃত করতে হবে। বর্তামানে সংগঠনগুলোর কার্যক্রম অনেকটাই শহরকেন্দ্রিক। ফলে গ্রাম বা মফস্বল এলাকায় এখনও অনেক মানুষ প্রয়োজনের সময় রক্ত না পেয়ে মারা যায়।

রক্তদান করা আদৌ কোনো কঠিন কাজ নয়। যথাযথ জ্ঞানের অভাব এবং প্রচলিত ভুল ধারণার ভিত্তিতে অনেক মানুষ রক্তদানে ভয় পান। এছাড়া কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতাও সমাজের অনেক মানুষকে রক্তদানে নিরুৎসাহিত করে। তাই নিরাপদ রক্ত প্রাপ্তির জোগান বাড়াতে প্রয়োজন আমাদের ইতিবাচক ও মানবিক মনোভাব। সাধারণত হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি ভাইরাস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস ইত্যাদি রোগমুক্ত এবং ৪৫ কেজির ঊর্ধ্বে ওজনের ১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোনো ব্যক্তি নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। রক্ত দেওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ভেতরেই রক্তদাতার শরীরে রক্তের পরিমাণ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্তদানের অনেক সুফল রয়েছে। যেমন নিয়মিত রক্তদাতাদের হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, লিভার, ফুসফুস, পাকস্থলীর ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কম। নিয়মিত রক্তদান রক্তের কোলেস্টেরল ও শরীরের ওজন কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি রক্তদাতার সুস্থতার পরিচায়ক। শরীরকে প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম রাখে। সর্বোপরি রক্তদান করার ফলে বিপন্ন মানুষের প্রাণ রক্ষার অপরিসীম ও নির্মল আনন্দ লাভের পাশাপাশি অশেষ পুণ্যেরও ভাগীদার হওয়া যায়। স্বেচ্ছায় রক্তদান সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।

শহর বা গ্রামের রক্তের ঘাটতি পূরণে সর্বাগ্রে প্রয়োজন আমাদের সচেতনতা। জনসাধারণের মাঝে নিয়মিত রক্তদানের উপকারিতার কথা যথাযথভাবে প্রচার করার পাশাপাশি নানাভাবে তাদের রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই প্রধান। তবে সমাজের শিক্ষিত মানুষ, তরুণ জনগোষ্ঠী, শক্তিশালী গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। এলাকাভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলে নিয়মিতভাবে রক্তদানের বিষয়ে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ফেসবুক’ যে কোনো ভালো কাজে মানুষকে সংগঠিত করার শক্তিশালী একটি মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত।

জনসাধারণকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করতে স্বীকৃতি বা সম্মাননার ব্যবস্থা করা যায়। এছাড়া বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে রক্ত সংগ্রহ ও যথাযথ সংরক্ষণে আর্থিক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সরকার ও সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। এলাকাভিত্তিক মানুষকে নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা গেলে প্রয়োজনের সময় রক্তের খোঁজে রোগীর স্বজনদের অত্যধিক দুশ্চিন্তা ও বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হবে না। বার্ষিক নিরাপদ রক্তের মোট চাহিদার জোগান নিশ্চিত করা গেলে বিনামূল্যের রক্তে বেঁচে যাবে অর্ধ লক্ষাধিক মুমূর্ষু প্রাণ। শুধু প্রয়োজন একটু সচেতনতা ও অকৃত্রিম মানবিকতা।

ইসরাফিল হোসেন / ইসরাফিল হোসেন


মন্তব্য করুন

রাজশাহী বিভাগে করোনায় আরও দুইজনের মৃত্যু

বিএসএফের ছোড়া পাথরের আঘাতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর অভিয়োগ

কেশবপুরে চাল ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা

কচুয়ায় নিখোঁজের ৩ দিন পর স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

কেশবপুরে ২ দল মাদক কারবারির গোলাগুলিতে নিহত ১

অপেক্ষার পালা শেষ, আজই দর্শক মাতাবেন ড. মাহফুজুর রহমান

ঈদের দিনেই রাজশাহী নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ

দাম না থাকাই পদ্মায় ফেলে দিল কোরবানির চামড়া

শ্যামনগরে অস্বচ্ছল মানুষেরা বাড়িতে বসেই পেল কুরবানির গোশত

মনিরামপুরে শিক্ষকের দরিদ্রের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

পানি বাড়িতে, আনন্দ নাই ঘরেতে

ত্যাগের মহিমায় সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যাণ্ড

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা