আজ মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

স্বাধীন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ'র খোলা চিঠি "আমি থার্ড পারসোন বলছি"


স্বাধীন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ'র খোলা চিঠি "আমি থার্ড পারসোন বলছি"

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২০   পঠিতঃ 60291


আমি থার্ড পারসোন বলছি
স্বাধীন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

প্রিয় তমা মানসী আমার,

পত্রের শুরুতে সারা পৃথিবী কুড়িয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনা ১০৮ টি লাল পদ্মফুলের শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালোই আছো। আমি কেমন আছি সেটা পুরো চিঠি পড়লে বুঝতে পারবে।অনেক দিন হলো তোমাকে দেখি না। সেই কবে একদিন তোমার সাথে কিছুটা পথ পাড়ি দিয়েছিলাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি তোমার দিকে কেমন যেন ফ্যাল ফ্যাল করে তাঁকিয়ে ছিলাম। তুমিও সেদিন কাঁদো কাঁদো নয়নে আমার দিকে চেয়ে ছিলে। আমার একটা হাত শক্ত করে ধরে ছিলে।আমাকে বলেছিলে বেশি করে ভাত খাবি,ওখানে গিয়ে রাজনীতিতে জড়াবি না,মন দিয়ে কাজ করবি।আমি নিজ দায়িত্ব পালন করতে তখন ঢাকা যাচ্ছি।তারপর ওপারে যাবো। তোমাকে রেখে গিয়েছিলাম নূপুর আপাদের বাড়ি। দেশের অবস্থা ভালো না।যে কোন সময় যুদ্ধ শুরু হবে। এই হলো তোমার আর আমার শেষ দিনের কথা। এরপর আমি শহরে আসি। নিজের কাজে একটু ব্যস্ত হয়ে পড়ি কয়টা দিন। নতুন শহর, নতুন মানুষ। তার মধ্যে আবার নিজে রান্না বান্না করে খাওয়া। হঠাৎ করে করে তোমার টেলিফোন আসত।কথা হত আমাদের। তোমার চিঠি পেতাম। উত্তর দিতাম। একটা চিঠিতে তুমি লিখেছিলে তুমি আমার জন্যে অপেক্ষা করবে। অনেক ভালোবাসতে আমাকে। আমিও কম ভালোবাসতাম না তোমাকে। তোমার ভয় ছিলো একটা মেয়েকে নিয়ে। যে মেয়েটাকে আমি একটা সময় পছন্দ করতাম। সে মেয়েটাও নিজ দায়িত্ব পালন করতে শহরে এসেছিলো। তবে সত্যি কথা বলতে গেলে ওই মেয়েটার সাথে আমার কোন যোগাযোগ ছিলো না। যাক যে কথা। আমি শহর থেকে ফিরে এসেছিলাম গ্রামে। এসে শুনি তোমার মা নাকি খুব অসুস্থ। ভদ্র মহিলাকে শহরে কোন এক হাসপাতালে নিতে হয়েছিলো। তুমি নাকি সেখানে গিয়েছিলে। তারপর থেকে আমার সাথে তোমার তেমন কোন যোগাযোগ হয়নি। অনেক খোঁজ খবর নিয়েছি তোমার কোন হদিস মেলেনি। এর ভেতর আমি ওপারে চলে গেলাম। ট্রেনিং শেষ করে দেশে ফিরলাম। যুদ্ধ শেষ হলো। ব্যস্ততা কমে গেল। আমিও সময়ের শেখলে বন্ধি হলাম। কিন্তু তোমাকে ভুলতে পারলাম না। নতুন কাউকে নিয়ে ভাবতেও পারিনি। কারণ আমি যে তোমাকে ভালোবাসতাম। এখনও ভালোবাসি।আজ বড্ড বেশি মনে পড়ছিলো তোমার কথা। আমার হারানো সেই শৈশব, কৈশর, যৌবনের কথা। কত বন্ধু ছিলো আমাদের। কত স্মৃতি ছিলো আমাদের। কত স্বপ্ন ছিলো আমাদের। তোমার মনে আছে তুমি বলতে আমাদের ১ টা ছেলে আর ১টা মেয়ে হবে। আমরা ছোট ছোট ঘর বানাবো সুন্দর করে। তুমি শুধু আমার সাথে ঝগড়া করতে আমাকে রান্না করে খাওয়াবে না বিয়ের পর তাই। আমি তোমার সব কথা পোকার মত চুপটি করে শুনতাম। তোমার সরলতায় আমি মুগ্ধ হতাম। অনেক পুরানো স্মৃতি আজ মনে ভেসে উঠছে। দু চোখ দিয়ে টপটপ করে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। একদিন তোমাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই প্রথম দিকের কথা।তখন আমরা কলেজে পড়তাম।তোমার শুধু জ্বর হতো। প্যারাসিটামল খেতে খেতে তুমি অধৈর্য হয়ে গিয়েছিলে। তারপর আমি তোমাকে সাথে করে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে ছিলাম।ডাক্তার পরীক্ষা করাতে বলেছিলো। তোমার সে কি ভয়! রক্ত তুলতে দিবা না মোটে হাত থেকে। আমার একটা হাত এত জোরে চেপে ধরেছিলে মনে পড়লে এখনও ব্যাথা লাগে। তারপর আবার ধরলে নতুন বাহানা। আল্ট্রাসনো করতে যাবা না। ডাক্তার নাকি দেখে নেবে পেট।পাগলী একটা কিছু দেখবে না। এই সব বলে তোমাকে পাঠালাম। রিপোর্ট আসতে দেরি হচ্ছিলো। আমরা বসে বসে গল্প করছিলাম।কত ছেলে মানুষি না করছিলাম দুজন বসে। বাকি রুগীরা সবাই আমাদের দুজনের কান্ড দেখছিলো। রিপোর্ট এল। ভালো খবর না।তোমার নাকি পেটে একটা পানির থলে হয়েছিলো। সেই জন্যে জ্বর হত। তুমি খবরটা শুনে ভেঙ্গে পড়লে। বাসায় যেতে পারবে কি ভেবে আমি তোমাকে তোমাদের বাসার সামনের রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিলাম। তারপর তোমার পরিবার বড় ডাক্তার দিয়ে তোমার একটা বড় অপারেশন করিয়ে ছিলো। কিছুটা সুস্থ হয়েছিলে।একদিন তোমাদের বাসায় গিয়েছিলাম তোমাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে নিয়ে।তোমার মা অনেক যত্ন করেছিলো। আসার সময় আমাকে টাকা দিয়েছিলো। তারপর আমি আমার বাড়ি চলে আসি। তুমি তোমার বাড়িতে থাকতে।তোমার মনে আছে কলেজ টাইমে আমরা ক্লাস না করে গল্প করতে বসতাম টেলিফোনে। একদিন আমি না খেয়ে ছিলাম তুমি নিজ হাতে রান্না করে বাসার সবাইকে চুরি করে বেলকোনি থেকে দড়ি ধরে আমার কাছে ভাত পাঠিয়ে ছিলে। আমি অনেক মজা করে খেয়ে ছিলাম।কখনও কারোর ভালোবাসা পাইনি তো তাই। তারপর একদিন তোমাদের বাসায় গেলাম তোমাকে দেখতে। তুমি একটু সুস্থ আছো।বাসার সব কাজ সেরে তুমি আমাকে খাইয়ে দিলে। বেশ ছিলো সে সব দিন গুলো।তোমার মনে আছে আমি একদিন তোমার উপর রাগ করে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলাম। হাত কেটে ফেলেছিলাম।তারপর তুমি কসম দিয়েছিলে ও সব না করতে। আমার একটু সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ছিলো সেটাও তুমি রাখতে দেওনি। আমরা দুজন সারাগ্রাম মাথায় করে বেড়াতাম। একদিন তোমার মা আমাকে অনেক বুঝিয়ে ছিলো।আমিও তোমার মাকে খুব সম্মান করতাম। আমার কাকিমা হতো তোমার মা। ওহ্ একটা কথা ডাক্তার তোমার অপারেশনের পর তোমাকে থেরাপি দিতো প্রতিমাসে। তোমার যাতে ক্যাস্নার হওয়ার ঝুঁকি না থাকে। তোমার চুল পড়ে গিয়েছিলো তাই আমিও আমার সব চুল ফেলে দিয়েছিলাম।আস্তে আস্তে তুমি সুস্থ হয়ে উঠল। তারমধ্যে আমি যুদ্ধে গেলাম। খবর পেলাম তোমার মাকে নিয়ে শহরে গেছ ডাক্তার দেখাতে।মাঝে মধ্যে তোমার কাছে টেলিফোন করতাম। তুমি ব্যস্ত থাকতে বিভিন্ন কাজে। তারপর একদিন রাতে কথা হয়েছিলো। তোমাকে রাগের মাথায় অনেক বকা দিয়েছিলাম। তুমি খুব কান্না করছিলে। আমিও সেদিন রাতে কান্না করে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তোমাকে চিঠি দিলে কোন রিপ্লে পেতাম না। আমি জানতাম তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো। আমি একটা অঘাত পেলে তুমি সেটা ২৫ গুন করে আঘাত নিতে।কিন্তু সব কিছু ভালোবাসা দিয়ে হয় না। আমি দরিদ্র পরিবারের ছেলে ছিলাম। তার ওপর আবার যুদ্ধে গেছি। ফিরে আসব কি কেউ জানতো না। আমি ঠিকই ফিরে এসেছিলাম। তুমি আর ফিরতে পারো নি। শুনেছিলাম শহরে কোন এক ভদ্রলোকের সাথে তোমার পরিচয় হয়েছিলো।তোমার পরিবারও রাজি ছিলো। তাই কিছু দিনের মধ্যে তোমরা নতুন একটা সম্পর্কে গিয়েছিলে। এদিকে আমি গ্রামে একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে পড়ে রইলাম। এখন বয়স প্রায় শেষ। প্রতিনিয়ত মৃত্যুর হাতছানি দেখতে পাই। ডাক্তার দেখানোর মত পয়সা নাই। যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলাম সেটা আর পূরণ হয়নি। না পেয়েছি তোমাকে না পেয়েছি সোনার বাংলা। ডাক্তার বলেছে ভালো মন্দ খেতে। বেশি চিন্তা না করতে অতীত স্মৃতি নিয়ে। সেটা তোমার হওয়ার ভয় ছিলো সেটা আমার হয়েছে। পাক সেনার বেয়নেটের আঘাত থেকে আমার ক্যাস্নার হয়েছে।সব লক্ষণ মিলে গেছে। মাত্র একটা লক্ষণ মিলতে বাকি আছে।সেটা কি জানো মৃত্যু। বেঁচে থাকলে হয়ত কোন একদিন দেখা হত।পৃথিবীটা অনেক ছোট তো। আর সেদিন হয়ত জানতে চাইতাম কেমন আছো? জানি একদিন মরেই যাবো।হাজার বেঁচে থাকতে চাইলেও বেঁচে থাকতে পারবো না। জানি না এই লেখা চিঠি তুমি পড়বে কি না। তারপরও তোমার নতুন ঠিকানায় চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম।যেদিন বেঁচে থাকবো না সেদিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে স্মৃতিগুলো।একবার কষ্ট হলেও স্মৃতিগুলো মিলিয়ে নিও।

আর লিখতে পারছি না।বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করে উঠছে।শুধু একটা অনুরোধ আমাকে ভুল বুঝ না।পারলে ক্ষমা করে দিও।আমি যে এ সুন্দর পৃথিবীকে কিছুই দিয়ে যেতে পারলাম না।শুধু দিয়ে গেলাম তোমাদের আগামির জন্যে লাল সবুজের একটা পতাকা।

ইতি
সেই আবেগি মানুষটি।

স্বাধীন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ / কামরুজ্জামান রাজু


মন্তব্য করুন

রাজশাহী বিভাগে করোনায় আরও দুইজনের মৃত্যু

বিএসএফের ছোড়া পাথরের আঘাতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর অভিয়োগ

কেশবপুরে চাল ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা

কচুয়ায় নিখোঁজের ৩ দিন পর স্কুল ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

কেশবপুরে ২ দল মাদক কারবারির গোলাগুলিতে নিহত ১

অপেক্ষার পালা শেষ, আজই দর্শক মাতাবেন ড. মাহফুজুর রহমান

ঈদের দিনেই রাজশাহী নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ

দাম না থাকাই পদ্মায় ফেলে দিল কোরবানির চামড়া

শ্যামনগরে অস্বচ্ছল মানুষেরা বাড়িতে বসেই পেল কুরবানির গোশত

মনিরামপুরে শিক্ষকের দরিদ্রের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

পানি বাড়িতে, আনন্দ নাই ঘরেতে

ত্যাগের মহিমায় সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যাণ্ড

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা