আজ বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ১৫ মাঘ ১৪২৭           আমাদের কথা    যোগাযোগ

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

ধর্ষণ প্রতিরোধে আমাদের করণীয়


ধর্ষণ প্রতিরোধে আমাদের করণীয়

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২০   পঠিতঃ 168399


শামীমা আক্তার তন্দ্রা।।

সামাজিক আইন ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে নারী পুরুষের যে কেউ জোরপূর্বক যৌনাচারে লিপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ। এ ধরনের কর্মে লিপ্ত হওয়ার নাম ধর্ষণ।প্রচলিত আইনে এ ধরণের প্রমাণিত অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা রয়েছে। মৃতুদণ্ডের বিধান বাস্তবায়নের দাবী সময়ের তালে জরুরী হয়ে পড়েছে। কারণ সমাজের আনাচে কানাচে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলছে। নারীরা নিরাপত্তা হীনতাই ভুগছে সবসময়। তবে পুরুষরাও নারীদের দ্বারা যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে। তবে নারীরাই বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। শিশু, যুবা,বৃদ্ধা কেউ বাদ যাচ্ছে না এ ধরনের ভয়ানক বিপদ থেকে। ধর্ষণের মতো বিপদ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা আমাদের। আজকাল মসজিদের ইমাম দ্বারা স্থানীয় নারীদের যৌন হয়রানি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর মূল কারণ হচ্ছে ইমামদের বেতন তুলনায় অনেক কম। যার ফলে তারা বাসা ভাড়া নিয়ে নিজের বৌকে কাছে রাখতে পারে না। আর তখন ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজে ইমামরাও জড়িয়ে পড়ে। যে কোনো পরিস্থিতিতে নিরাপদে থাকার দায়িত্ব প্রথমত ব্যক্তির নিজের। যৌন সহিংসতা, এর নেতিবাচক প্রভাব, শাস্তি এবং করণীয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য এবং সচেতনতা প্রাক-কৈশোর ছেলে-মেয়েদের থাকা জরুরী, কারণ সচেতনতা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে। এই বয়সেই পরিবারে এবং স্কুলে 'লিঙ্গের ভিন্নতা /যৌনতা এবং সম্পর্ক( sex and relationship) বিষয়ে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাদান সময়ের দাবী।এতে সুস্থ সম্পর্ক বিষয়ে ধারণা এবং বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সম্মান-সহানুভূতি তৈরি হয়। যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তির করণীয়সমূহঃ

প্রথমত ধর্ষণের ঘটনা হবার সম্ভাবনা আছে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা যেমন,অপরিচিত  ব্যক্তি,অনিরাপদ /নিরিবিলি স্থান। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিচিত-অপরিচিত ব্যক্তির যৌন উদ্দেশ্য সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করা এবং সে অনুযায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া। আস্থাশীল বন্ধু তৈরি করা এবং দলে চলাফেরা করার চেষ্টা করা বিশেষ করে সন্ধ্যার পর। বিপদজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রস্থান করা,দৌঁড়ানো এবং যত জোরে সম্ভব চিৎকার করে আশেপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। মরিচ গুড়ো /ঝাঁঝালো স্প্রে,প্রয়োজনীয় আত্মরক্ষামূলক হাতিয়ার সঙ্গে রাখা এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা। বিপদে মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করা।যেমন,আক্রান্ত হবার আগেই চাবির গোছা, ব্যাগ বা হাতের কাছে যা আছে তা দিয়ে আক্রমণকারীকে আঘাত করা। ধর্ষণ পরবর্তী  করণীয় এবং বিচার 
ধর্ষণের শিকার নারীকে সহানুভূতির সাথে সহযোগিতা করা একটা মানবিক দায়িত্ব। কারণ ধর্ষণ নারীর দোষে ঘটে না,বরং ধর্ষক একজন ভয়ংকর অপরে। এ সময় যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার চাপ সহ্য করা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে যা আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে পারে। জীবন অনেক মূল্যবান, তাছাড়া কখনও সমস্যার সমাধান না।ধর্ষণের শিকার নারীর কঠোর নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করা অতি জরুরী। তাঁর পরিচয়মূলক তথ্য কখনোই প্রকাশ করা যাবে না।মিডিয়াসহ কেই তা প্রকাশ করলে তাঁর কঠিন শাস্তির  ব্যবস্থা করতে হবে, প্রয়োজনে গোপনীয়তার আইন সংশোধন করে কঠোর করতে হবে। ধর্ষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ, কিন্তু ভুক্তভোগীর জীবনে ধর্ষণের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক-মানসিক-সমাজিক প্রভাবের তুলনায় প্রচলিত শাস্তির ধরনে পরিবর্তন দরকার মনে করি।উন্নত দেশে অপরাধীদের চলাফেরা নজরদারীর জন্য এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।ধর্ষণকারীর জন্য ডিভাইসটিতে বিশেষ শব্দ যুক্ত থাকবে এবং ডিভাইসটি হাত ঘড়ির মতো ব্যবহার করতে হবে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী তালাবদ্ধ করে দেবেন। এ ডিভাইস থেকে সবসময় শব্দটি সৃষ্টি হবে,যাতে নারীরা এ বিশেষ শব্দে সাবধান হয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারেন।চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে সে সমাজ ঘৃণিত হবে। দেশে শিশু ধর্ষণের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। শিশুরা হলো জাতির ভবিষ্যত গড়ার মূল হাতিয়ার। কিন্তু প্রতিদিনের খবরের কাগজে শিশু ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধের কথা উঠে আসছে। বেশিরভাগ শিশুই ধর্ষিত হচ্ছে তাদের গৃহশিক্ষক, নিকট -আত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের দ্বারা। শিশু ধর্ষণ সমাধানে করণীয় হচ্ছে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো, শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের সকলের মন-মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। তৃতীয়ত, এই জঘন্য অপরাধের জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের পার্শ্ববতী দেশ ভারতে, শিশু ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।আমাদের দেশেও ১২ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ধর্ষণ করলে মৃত্যদণ্ডের মত সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।তাহলেই শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ হ্রাস পাবে। ইদানীং পত্রিকার পাতা খুললে কিংবা টিভির সংবাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলে প্রায়ই চোখে পড়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যাবিষয়ক খবরাখবর। এ সংক্রান্ত খবর পড়তে পড়তে মানুষের মন যেন আজ রীতিমতো বিষিয়ে উঠেছে। ধর্ষণের হাত থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে, গৃহবধূ, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী থেকে শুরু করে চার-পাঁচ  বছরের কোমলমতি শিশু পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না।আর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও ধর্ষণ করার ঘটনা তো সমাজে অহরহই ঘটে চলেছে। এতটা জঘন্য অবস্থা হয়েছে যে, একজন মেয়েও তার বাবার কাছে এখন অনিরাপদ। এটা এখন অতি সাধারণ বিষয় হয়ে গিয়েছে যে পিতা তার কন্যাকে ধর্ষণ করছে। চাচা তার ভাতিজী, ভাই তার বোনকে ধর্ষণ করছে। মামা তার ভাগ্নীকে ধর্ষণ করছে। আমাদের সমাজটা পঁচে গিয়েছে। কোথাও কোনো নারী নিরাপদ নয়। দু'মাসের বাচ্চা পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে। গণ ধর্ষণের হার বেড়েই চলেছে। এর প্রতিকার পেতে হলে সকল ধর্ষককে ফাঁসি দিতে হবে। নইলে তাদেরকে চিরতরের জন্য খোঁজা করে দিতে হবে। এবং সবার ভিতর সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
ধর্ষণ নিয়ে একটি কবিতা না লিখলেই নয়ঃ
 
'ধর্ষণ'
তোমারা তো বলো উচ্ছৃঙ্খল নারীকে করি মোরা ধর্ষণ
তবে কেন বাদ যায় না নবজাতক? 
অবুঝ শিশুকে করো কর্ষণ!!!
শুনতে কি পাও ঐ ধর্ষিতার আর্তনাদ?
হতেও তো পারে তোমারি মা বোন ধর্ষণের কারণে উন্মাদ। 
চারিদিকে শরাবের নেশা পেতেছে ধর্ষণের সজ্জা
টাকার বিনিময়ে দেহ দিতে প্রস্তুত,প্রেমিকা দেয় দেহ
তবে কেন ধর্ষণ!!!
রূপজীবী রাও পাই লজ্জা। 
সমাজে কেন শুনি ধর্ষিতা ধর্ষিতা ধর্ষিতা!!!
তার চেয়ে বরং ভালো অর্থের বিনিময়ে ভোগ করা পতিতা। 
কোথাও কি আছে! ছিল? আদেও কোনো নারী নিরাপদ 
বন্ধ করো ধর্ষণ নইলে পথশিশু তৈরি করবে বিপদ। রাস্তার পাশে পাগলীকে দেখি সন্তান কোলে বসে 
সন্তানের বাবা হয়তো কোনো অট্টালিকায় থাকে 
হয়তো বা থাকে তার আদরের বন্ধ্যা স্ত্রীর পাশে। 
যতই করো পাপ প্রকৃতি নেয় প্রতিশোধ 
মুক্তি পাবেনা হয়তো বা আজ হয়তো বা কাল 
করবেই তোমায় রোধ।
করতে গেলে ধর্ষণ
তোমার মাতা,বোন,আর কন্যার মুখকে করো স্মরণ 
হয়তো বা চলে যাবে পাপের স্পৃহা করবে না আর ধর্ষণ
করোনা করোনা অবুঝ শিশু আর নারীকে কর্ষণ।নারী সে তো বিশাল ভূমি 
নারী না হলে জন্মাতে না তুমি। 
সুন্দর মন দিয়ে আদায় করে নাও
প্রিয়ার ভালোবাসা 
দেখবে সুন্দর জীবন পাবে
জাগবে না মনে আর ধর্ষণের কালো আশা।
একজন ধর্ষিতার চিৎকার 
সমাজে বয়ে আনে অগণিত মানুষের ধিক্কার। 
করোনা কখনও ধর্ষণ
জাতি হবে নির্লজ্জ কতটা তা করো স্মরণ। 
সমাজ দেয় ধর্ষক নয়, ধর্ষিতার শাস্তি 
ধর্ষিতার বিয়ে নয়, ধর্ষকের বিয়ে হয় করে মাস্তি।
ধর্ষিতা কখনও নয় সমাজের বোঝা 
ধর্ষককে করে দেওয়া উচিৎ আজীবনের তরে খোঁজা। চাইনা মোরা আর কোনো কলুষিত মন
পৃথিবীর থেকে  উঠিয়ে দাও ধর্ষণ।
সুতরাং ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে অবশ্যই ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যেন সেই শাস্তি দেখে সবাই ধর্ষণ থেকে দূরে থাকে। 

লেখক,

শামীমা আক্তার তন্দ্রা একজন তরুণ কলামিস্ট ও সাবেক শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

শাহ্‌ জালাল /


মন্তব্য করুন

কেশবপুরে ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণের পরিকল্পনায় পাঁচ সরকারী কর্মকর্তাকে বিবাদী করে মামলা

রাজাকার পুত্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছি

কেশবপুরে বাজার করা প্যাকেটে নবজাতকের মরদেহ

কেশবপুর থানা পুলিশের হাতে ৯ আসামী গ্রেফতার

কেশবপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আ’লীগের মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন রফিক-মিলন

অন্যের জমির উপর প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ

বিএনপির প্রার্থী মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে: সংবাদ সম্মেলনে আ'লীগের প্রার্থী

মুরাদনগরে শুরু হচ্ছে জমির শাহ মস্তান (রঃ) এর তিনদিন ব্যাপী ওরশ শরীফ

খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে শৃঙ্খলা বোর্ডের সভা ডাকা হবে: উপাচার্য

কেশবপুরের বিশিষ্ট বস্ত্র ব্যবসায়ী বাসারের মৃত্যু

সংসদে যশোরকে বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের দাবি এমপি নাবিলের

কেশবপুরের পাঁজিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্টে পুড়া ডাঙ্গা একাদশ বিজয়ী

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যান্ড

আমাদের নিউজ পোর্টাল আপনার কেমন লাগে ?

  খুব ভালো

  ভালো

  খুব ভালো না

  ভালো লাগে না

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা